Islamic

পার্ট ১ঃ ছালাতের পর পঠিতব্য দো’আ সমূহ

১। আল্লা-হু আকবার। (১ বার)

অর্থঃ আল্লাহ সবার চেয়ে বড়।

[বুখারী হা/৮৪২]

২। আসতাগফিরুল্লাহ। (৩ বার)

অর্থঃ আমি আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

[মুসলিম হা/৫৯১]

৩। আল্লা-হুম্মা আন্তাস্ সালা-মু ওয়া মিন্কাস্ সালা-মু, তাবা-রক্তা ইয়া যাল জালা-লি ওয়াল ইকরাম।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, আপনার থেকেই আসে শান্তি। বরকতময় আপনি, হে মর্যাদা ও সম্মানের মালিক।

[মুসলিম হা/৫৯২]

৪। লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর।

অর্থঃ আল্লাহ ভিন্ন কোন উপাস্য নেই। তিনি অদ্বিতীয়। তাঁর কোন অংশীদার নেই! রাজত্ব একমাত্র তারই এবং সব প্রশংসা একমাত্র তাঁর জন্যে। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

[মুসলিম হা/৫৯৪]

৫। আল্লা-হুম্মা আ’ইন্নী-আলা-যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবা-দাতিক।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনাকে স্মরণ করার, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার এবং আপনার উৎকৃষ্ট ইবাদত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করুন।

[মুসলিম হা/৫৯৪, আবুদাঊদ হা/১৫২২]

৬। আল্ল-হুম্মা লা- মা-নি‘আ লিমা- আ‘ত্বয়তা, ওয়ালা- মু‘ত্বিয়া লিমা- মানা‘তা, ওয়ালা- ইয়ানফা‘উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও, তা রোধ করার কেও নেই এবং তুমি যা রোধ কর, তা দেওয়ার কেও নেই। তোমার রহমত ব্যতীত ধনবানের ধন-সম্পদ কোন উপকার করতে পারে না।

[বুখারী হা/৮৪৪]

৭। লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- না‘বুদু ইল্লা- ঈয়্যাহু, লাহুন্ নি‘মাতু, ওয়ালাহুল ফাযলু, ওয়ালাহুস্ সানা-উল হাসানু, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মুখলিসীনা লাহুদ্দীন, ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন।

অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা মাত্রই তাঁর এবং তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাশীল। কোন অন্যায় ও অনিষ্ট হতে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় নেই এবং কোন সৎ কাজ করারও ক্ষমতা নেই একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া। আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই, আমরা একমাত্র তাঁরই ‘ইবাদাত করি, যাবতীয় নি‘আমাত ও অনুগ্রহ একমাত্র তাঁরই পক্ষ থেকে এবং উত্তম প্রশংসাও তাঁর। আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই। আমরা তাঁর দেয়া জীবন বিধান একমাত্র তাঁর জন্য একনিষ্ঠভাবে মান্য করি, যদিও কাফিরদের নিকট তা অপ্রীতিকর।

[মুসলিম হা/১৫২৩]

৮। আয়াতুল কুরসী। (১ বার)

উচ্চারণঃ আল্লা-হু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া আল হাইয়ুল কাইয়ূমু লা-তা’খুযুহূ ছিনাতুওঁ ওয়ালা-নাওমুন লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূইল্লা-বিইযনিহী ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়ালা-ইউহীতূনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহীইল্লা-বিমা-শাআ ওয়াছি‘আ কুরছিইয়ুহুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ালা-ইয়াঊদুহু হিফজু হুমা-ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়ূল ‘আজীম।

অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

[সূরা বাক্বারাহ ২/২৫৫, ছহীহ তারগীব হা/১৫৯৫]
আয়াতুল কুরসী এর অডিও শুনুনঃ

৯। সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস (১ বার) [আবুদাঊদ হা/১৫২৩]

[ফজর ও মাগরিবের সালাতের পর ৩ বার] [তিরমিযী হা/৩৫৭৫]

১০। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল জুব‘নি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিনাল বুখ্লে ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন আরযালিল ‘উমুরে; ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ ফিৎনাতিদ দুন্ইয়া ওয়া ‘আযা-বিল ক্বাবরে।

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! (১) আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভীরুতা হ’তে (২) আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা হ’তে (৩) আশ্রয় প্রার্থনা করছি নিকৃষ্টতম বয়স হ’তে এবং (৪) আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিৎনা হ’তে ও (৫) কবরের আযাব হ’তে’।

[বুখারী হা/৬৩৭৮]

১১। সুবহা-নাল্লা-হ (৩৩ বার)। আলহামদুলিল্লা-হ (৩৩ বার)। আল্লাহু-আকবার (৩৩ বার)। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহূ লা শারীকা লাহূ; লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদীর (১ বার)।

অথবা আল্লা-হু আকবার (৩৪ বার)।

[মুসলিম হা/৫৯৬, ৫৯৭]

===========এছাড়াও অন্যান্য দোয়া সমূহ (দোয়া গুলো যেকোন সময় পাঠ করা যায়)=============

১২। রাযীতু বিললা-হে রববাঁও ওয়া বিল ইসলা-মে দীনাঁও ওয়া বিমুহাম্মাদিন্ নাবিইয়া।

অর্থঃ আমি সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম আল্লাহর উপরে প্রতিপালক হিসাবে, ইসলামের উপরে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদের উপরে নবী হিসাবে।

[ইবনু মাজাহ হা/৭২১, তিরমিযী হা/ ২৫৭২]

১৩। আল্লা-হুম্মা আদখিলনিল জান্নাতা ওয়া আজিরনী মিনান্ না-র (৩ বার)

অর্থ : হে আল্লাহ তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দাও!

[ইবনু মাজাহ হা/৭২১, তিরমিযী হা/ ২৫৭২]

১৪। সুবহা-নাল্লা-হে ওয়া বেহাম্দিহী ‘আদাদা খাল্ক্বিহী ওয়া রিযা নাফ্সিহী ওয়া ঝিনাতা ‘আরশিহী ওয়া মিদা-দা কালেমা-তিহ (৩ বার)।

অর্থ : মহাপবিত্র আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁর জন্য। তাঁর সৃষ্টিকুলের সংখ্যার সমপরিমাণ, তাঁর সত্তার সন্তুষ্টির সমপরিমাণ এবং তাঁর আরশের ওযন ও মহিমাময় বাক্য সমূহের ব্যাপ্তি সমপরিমাণ।

[মুসলিম হা/২৭২৬]

১৫। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল হাম্মে ওয়াল হাযানে ওয়াল ‘আজঝে ওয়াল কাসালে ওয়াল জুবনে ওয়াল বুখলে ওয়া যালা‘ইদ দায়নে ওয়া গালাবাতির রিজা-লে।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-বেদনা হ’তে, অক্ষমতা ও অলসতা হ’তে, ভীরুতা ও কৃপণতা হ’তে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের যবরদস্তি হ’তে’।

[বুখারী হা/৬৩৬৯]

১৬। ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূবে ছাবিবত ক্বালবী ‘আলা দ্বীনিকা, আল্লা-হুম্মা মুছারিরফাল কবুলূবে ছাররিফ ক্বুলূবানা ‘আলা ত্বোয়া-‘আতিকা।

অর্থ : হে হৃদয় সমূহের পরিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখো’। ‘হে অন্তর সমূহের রূপান্তরকারী! আমাদের অন্তর সমূহকে তোমার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দাও’।

[তিরমিযী হা/২১৪০, মুসলিম হা/২৬৫৪]

১৭। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুক্বা ওয়াল ‘আফা-ফা ওয়াল গিণা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে সুপথের নির্দেশনা, পরহেযগারিতা, পবিত্রতা ও সচ্ছলতা প্রার্থনা করছি।

[মুসলিম হা/২৭২১, বুখারী হা/৬৬৮২]

১৮। আল্লা-হুম্মাকফিনী-বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিক, ওয়াগনিনী-বিফাযলিকা ‘আম্মান সিওয়া-ক।

অর্থঃ “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হারাম ব্যতীত হালাল দ্বারাই যথেষ্ট করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে আপনি ব্যতীত অন্যদের থেকে অমুখাপেক্ষী করুন।”

[তিরমিযী, হা/৩৫৬৩]

১৯। আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী-লা-ইলা-হা ইল্লা-হুয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ু-মু ওয়া আতূ-বু ইলাইহ।

অর্থঃ “আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং আমি অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর নিকট তাওবা করছি।”

[আবুদাউদ, হা/১৫১৭]

২০। রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা ৷

অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করো,যেমন তারা দয়া, মায়া, মমতা সহকারে শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।

[সূরা বনী-ইসরাঈলঃ২৪]

২১। রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররি-ইয়্যাতিনা কুররাতা আয়ুনিওঁ-ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা

অর্থ: হে আমার প্রভু! স্ত্রী ও সন্তানদের দ্বারা আমার চোখ শীতল কর। আমাকে পরহেজগারদের আদর্শ কর।

[সূরা ফোরকান: ৭৪]

লিফলেটঃ সালাতের পর পঠিতব্য দোয়া সমূহ

Dua After Salat সালাতের পর পঠিতব্য দোয়া সমূহ

লিফলেটঃ সালাতের পর পঠিতব্য দোয়া সমূহ (শুধু বাংলায়)

সালাতের পর পঠিতব্য দোয়া সমূহ (শুধু বাংলায়)

সানা

মূল আরবীঃ اَللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كما بَاعَدْتَ بين الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اَللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الْخَطَايَا كما يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ من الدَّنَسِ اللهم اغْسِلْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدَِ

উচ্চারণঃ
আল্লাহুম্মা বা-ইদ-বাইনি ওয়াবায়না খাতা ইয়া ইয়া-কামা বা আদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়ালমাগরিবি, আল্লাহুম্মা নাক্কিনি মিনাল খাতাইয়া কামা ইউ নাক্কাস সাউবুল আবইয়াযু মিনাদদানাস্‌ , আল্লাহুম্মাগসিল খাতা ইয়া ইয়া বিল্‌মায়ি ওয়াস্‌সালজি ওয়ালবারাদ ।

অর্থ:
হে আল্লাহ তুমি আমার এবং আমার গুনাহবলির মধ্যে এরূপ পরিমাণ দূরত্ব কর, যে পরিমাণ দূরত্ব তুমি পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের মধ্যে সৃষ্টি করেছো । হে আল্লাহ তুমি আমাকে পাপরাশি হতে এরূপ পবিত্র কর যেরূপ সাদা কাপড় বিধৌত করে ময়লামুক্ত করা হয় । তুমি আমার পাপরাশিকে পানি,বরফ ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও। 

[(ই.ফা প্রকাশিত বুখারি ২খণ্ড ১০৩ পৃ:,৭০৮ নম্বর হাদিস) ও মুসলিম]

বিতরের সা্লাতে সঠিক দুয়া কুনুতঃ

ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﻫْﺪِﻧِﻲْ ﻓِﻴْﻤَﻦْ ﻫَﺪَﻳْﺖَ، ﻭَﻋَﺎﻓِﻨِﻰْ ﻓِﻴْﻤَﻦْ ﻋَﺎﻓَﻴْﺖَ، ﻭَﺗَﻮَﻟَّﻨِﻲْ ﻓِﻴْﻤَﻦْ ﺗَﻮَﻟَّﻴْﺖَ، ﻭَﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟِﻲْ ﻓِﻴْﻤَﺎ ﺃَﻋْﻄَﻴْﺖَ، ﻭَﻗِﻨِﻲْ ﺷَﺮَّ ﻣَﺎ ﻗَﻀَﻴْﺖَ، ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺗَﻘْﻀِﻰْ ﻭَﻻَ ﻳُﻘْﻀَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻚَ، ﺇﻧَّﻪُ ﻻَ ﻳَﺬِﻝُّ ﻣَﻦْ ﻭَّﺍﻟَﻴْﺖَ، ﻭَ ﻻَ ﻳَﻌِﺰُّ ﻣَﻦْ ﻋَﺎﺩَﻳْﺖَ، ﺗَﺒَﺎﺭَﻛْﺖَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻴْﺖَ، ﻭَﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ-

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাহ্দিনী ফীমান হাদায়িত , ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইত, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইত, ওয়া বা-রিকলি ফীমা ‘আ‘ত্বাইত, ওয়া ক্বিনী শাররা মা ক্বাযাইত; ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়া লা ইয়ুক্বযা ‘আলাইক, ইন্নাহূ লা ইয়াযিল্লু মাঁও ওয়া-লাইত, ওয়া লা ইয়া‘ইয্ঝু মান্ ‘আ-দাইত, তাবা-রকতা রববানা ওয়া তা‘আ-লাইত, ওয়া সাল্লাল্লা-হু ‘আলান্ নাবী’।

অনুবাদ : হে আল্লাহ! তুমি যাদেরকে সুপথ দেখিয়েছ, আমাকে তাদের মধ্যে গণ্য করে সুপথ দেখাও। যাদেরকে তুমি মাফ করেছ, আমাকে তাদের মধ্যে গণ্য করে মাফ করে দাও। তুমি যাদের অভিভাবক হয়েছ, তাদের মধ্যে গণ্য করে আমার অভিভাবক হয়ে যাও। তুমি আমাকে যা দান করেছ, তাতে বরকত দাও। তুমি যে ফায়ছালা করে রেখেছ, তার অনিষ্ট হ’তে আমাকে বাঁচাও। কেননা তুমি সিদ্ধান্ত দিয়ে থাক, তোমার বিরুদ্ধে কেউ সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তুমি যার সাথে বন্ধুত্ব রাখ, সে কোনদিন অপমানিত হয় না। আর তুমি যার সাথে দুশমনী কর, সে কোনদিন সম্মানিত হ’তে পারে না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বরকতময় ও সর্বোচ্চ। আল্লাহ তাঁর নবীর উপরে রহমত বর্ষণ করুন’।
[সুনানু আরবা‘আহ, দারেমী, মিশকাত হা/১২৭৩ ‘বিতর’ অনুচ্ছেদ-৩৫; ইরওয়া হা/৪২৯, ২/১৭২]

পার্ট ২ঃ দৈনন্দিন পঠিতব্য দোয়া সমূহ

১। সাইয়েদুল ইস্তেগফার: (তওবার শ্রেষ্ঠ দোআ)

মূল আরবীঃ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ ﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ’উযুবিকা মিন শার্রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্ফির্লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা।

অনুবাদঃ হে আল্লাহ তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।

ফজিলতঃ এই দোয়া সকালে পড়ে রাতের আগে মারা গেলে অথবা রাতে পড়ে সকালের আগে মারা গেলে সে জান্নাতে যাবে।

[বুখারী-হা/৬৩০৬]
সাইয়েদুল ইস্তেগফার এর অডিও শুনুনঃ

Siyedul Istegfar । সাইয়েদুল ইস্তেগফার

২। বিষধর পোকামাকড়ের (এডিস মশা, সাপ, বিচ্ছু প্রভৃতি) কামড় থেকে বেঁচে থাকার দোয়া

দোয়াটি হলো:

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.

উচ্চারণ: আউজুবি কালিমাতিল্লাহিত তামমাতি মিন শাররি মা খালাক্বা।

অর্থ: আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি আল্লাহর সব পূর্ণ কালিমাসমূহের উসিলায়, তাঁর সৃষ্ট সকল প্রাণীর অনিষ্ট থেকে।

ফজিলত:

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন; একবার এক লোককে বিচ্ছু দংশন করলে লোকটি ব্যথার কারণে রাতে ঘুমাতে পারল না, সকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন, যদি সন্ধ্যা বেলায় এ দোয়াটি পড়ত তাহলে সকাল পর্যন্ত বিচ্ছুর দংশন তাকে কোনো ক্ষতি করতে পারত না।

[মুসলিম, ইবনু মাজাহ, আবু দাউদ]

৩। ঘুমানোর আগের দো’আ।

আয়াতুল কুরসি ও সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত।
আয়াতুল কুরসি ও সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত এর অডিও শুনুনঃ

৪। আল্লাহ’র ৯৯ টা নাম:

পৃথিবীর সব চেয়ে সুন্দর নামের অধিকারি এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ। আজ আমরা ওমার এশার মধুর  কণ্ঠে আল্লাহ্‌র ৯৯ টি নামের অসাধারণ একটি গজল, জিকির বা আমল শুনব বাংলা আরবি অর্থসহ কারে।

আল্লাহ তাআলার ৯৯টি নাম আছে; সেগুলোকে মুখস্থকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা বিজোড় (অর্থাৎ, তিনি একক, এবং এক একটি বিজোড় সংখ্যা), তিনি বিজোড় সংখ্যাকে ভালোবাসেন।

কুরআনের সূরা আরাফের ১৮০ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শিগগিরই পাবে।’

আল্লাহ্‌র ৯৯ টি নামের অনেক ফজিলাত আছে । যেমন, আল্লাহু = প্রত্যহ ১০০ বার এই নামের ‍যিকির করলে ঈমান দৃঢ় ও মযবুত হয় ।

আল্লাহ'র ৯৯ টা নামঃ

লিফলেটঃ দৈনন্দিন পঠিতব্য দোয়া সমূহ

Daily Life Dua দৈনন্দিন পঠিতব্য দোয়া সমূহ

পার্ট ৩ঃ কোরআন এর অর্থ শিখি সহজেই

১২৫ টি শব্দের অর্থ জানলে কুরআনের ৫৫% শব্দের অর্থ জানা হয়ে যায় আর ৩২০ টি জানলে জানা হয় ৭৫%!!!

জ্বি, ঠিক তাই।

কুরআনের শব্দ সংখ্যা ৭৭,৪০০ এর কিছু বেশি হলেও ধাতু ও মৌলিকত্বের বিচারে শব্দ মাত্র ১৮২০ টি। এই শব্দগুলোর অনেক শব্দেরই ঘটেছে পুনরাবৃত্তি। তাই, বেশি ব্যবহৃত শব্দগুলো আগে শিখলে কুরআনের আয়াতগুলোর অর্থ বুঝতে সহজ হয়।

যারা মাদ্রাসায় পড়েনি বা আরবী যাদের ভাষা নয়, তারা এসব পুনরাবৃত্তিমূলক শব্দগুলো হতে ৫-১০ টি দৈনিক মনে রাখলে বেশিদিন লাগবে না এসব জানতে ইনশা-আল্লাহ। দ্রুতই তখন কুরআন পড়ার সময় দেখবেন অর্থ পুরো না বুঝলেও অনেক আয়াতেরই অর্থের অনুবাদ ছাড়াই অনেকটা কাছাকাছি যেতে পারবেন।

🤲 : আল্লাহ আমাদের জন্য কুরআন বুঝা ও মানা সহজ করুন, আমীন।

আমাদের মাতৃভাষা বাংলা, সেজন্য আমরা যখন কুরআন পড়ি,, না বুঝেই তিলাওয়াত করতে হয় কারণ আমরা কুরআনিক আরবী জানিনা। কোরআন পড়ার পাশাপাশি বুঝে পড়াটা খুব জরুরী। তিলাওয়াতের সময় যখন তিলাওয়াত করি তখন শুধু আবৃত্তি করি; কিন্তু কী পড়তেছি,  কী এটার ব্যাখা, এটার অর্থ কী আমরা জানিনা!নামাযে যখন ইমামের পেছনে শুনি তখন যদি আমরা কুরআনের আরবী বুঝতে পারতাম তাহলে নামাযে খুশু খুযু আসতো, মনোযোগ দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা কী করি?

সারাটা জীবনই এভাবে না বুঝে কাটিয়ে দেই, কখনও কুরআনের আরবী শেখার চেষ্টাও করিনা! কতোই অভাগা আমরা!

পার্থিব জীবনের সফলতার জন্য বইয়ের পর বই আমরা মুখস্ত করতে পারি। গোগ্রাসে গিলতে পারি শত শত থিওরী, শুধুমাত্র এই দুনিয়ায় কয়টা বছর ভালো থাকার জন্য। অথচ কখনোই দ্বীনি ইলম জানার জন্য চেষ্টা করিনা আমরা।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর উপর ফরয।”

কুরআনিক আরবী শিখতে আমরা ভয় পাই, মনে করি না জানি এটা কতো কঠিন!

আসলে যারা শিখেছেন তাদের অভিজ্ঞতা মতে এটা ততোটাই সহজ, শুধুমাত্র একটু চেষ্টা দরকার। আপনাকে পুরো আরবী ভাষা শিখতে হবেনা। vocabulary শিখতে হবে যতো বেশি পারেন।আজকে ইনশাআল্লাহ পবিত্র কুরআনে অনেক বেশি ব্যবহৃত ১০০ টি শব্দ দেয়ার চেষ্টা করবো।এগুলো একদম বেসিক noun, pronoun,  adjective, verb, preposition and question words। জোড়া তালি দেয়ার শব্দগুলো শিখতে পারলে ইনশাআল্লাহ যখন vocabulary আরো বেশি করে জানবেন তখন আরবী পড়ে নিজেই অর্থ বুঝে নিতে পারবেন। প্রতিদিন পাঁচটি করে শব্দ শিখবেন এটাই যথেষ্ট।

1st day:

1. هَذَا[হাযা] this (male-এটা)

2. هَـذِهِ -[হাযিহি] this (female এটা)

3. هَـؤُلآءِ -[হা-উলা-ই] these (এইসকল)

4. ذَلِكَ -[যালিকা] that (male যাহা, যে)

5. تِلْكَ -[তিলকা] that (female যাহা,যে)

2nd day :

6. أُولَئِكَ -[উলাইকা] those (যাহারা,সেগুলো)

7.  اَلَّذِىْ -[আল্লাযি] who (male যে)

8. اَلَّتِىْ -[আল্লাতি] who (female)

9. اَلَّذِيْنَ -[আল্লাযিনা] those who (তোমরা যারা)

10. تَحْتَ -[তাহতা] under (তলদেশে,নিচে)

3rd day :

11. فَوْقَ -[ফাওক্বা] above (উপর)

12. قَبْلَ -[ক্ববলা] before -(সামনে, আগে)

13. ﺑَﻌْدَ -[বা’দা] after (পরে, পরবর্তী কালে)

14. بَيْنَ -[বাইনা] between (মধ্যবর্তী স্থানে)

15. دُونَ -[দুনা] besides (তুলনায়,পার্শ্বে)

4th day :

16. عِنْدَ -[‘ইন্দা] near (নিকটবর্তী, প্রায়)

17. يَمِيْنْ -[ইয়ামিন] right (ন্যায়, ঠিক, সত্য)

18. شِمَالْ -[শিমাল] left (বাদিকে)

19. ٱللَّه -Allah

20. رَب -রব

5th day :

21. أَرْض -[আরদ্বা] পৃথিবী (World)

22. قَوْم -[ক্বওম] nation (জাতি)

23. ءَايَة -[আয়াহ] (চিহ্ন/আয়াত)

24. كُل -[কুল্লু] every (প্রত্যেক, সব)

25. رَسُول -[রসূল] messenger (দূত)

6th day :

26. يَوْم -[ইয়াওম] day (দিন)

27. عَذَاب – [‘আযাব] punishment (আজাব)

28. سَمَآء -[সামা’] sky (আকাশ)

29. شَىْء -[শাইই্] thing (জিনিস, ঘটনা, ব্যাপার)

30. كِتَاب -[কিতাব] Book (বই, কিতাব)

7th day :

31. حَق -[হাক্ব] truth (সত্য)

32. نَاس – [নাস] people (সম্প্রদায়)

33. مِن – [মিন] from (হতে, থেকে)

34. فِى -[ফী] in (অভ্যন্তরে, মধ্যে)

35. عَلَى -[‘আলা] upon (সন্নিকটে)

8th day :

36. اِلَى -[ইলা] to (কাছে, প্রতি)

37. عَن -[‘আন] about (সম্পর্কিত, সম্পর্ক)

38. حَتَّی -[হাঁত্তা] until (যতক্ষণ না)

39. مَعَ -[মা’আ] with (একত্রে, সঙ্গে)

40. بِ -[বি] with (সাথে)

9th day:

41. كَ -[কা] like (মত, প্রায়)

42. لِ -[লি] for (জন্য)

43. مَن -[মান] who (যে)

44. مَا / مَاذَا -[মা যা] what (কী, যাহা)

45. أَيْنَ -[আইনা] where (যেথায়, কোথায়)

10 the day :

46. مَتى -[মাতা] when (কখন, তখন)

47. لِمَ / لِمَاذَا -[লিমা/লিমা যা] why (কেন, কী জন্য)

48. كَيْفَ -[কাইফা] how (কেমন, কিভাবে)

49. هَلْ -[হাল] are (হয়)

50. أَيُّ -[আইয়্যু] which (যেটি, যেগুলো)

11 the day :

51. كَمْ -[কামা] how much (কতোটুকু)

52. لَا -[লা] no (না)

53. مَا -[মা] not (মোটেই নয়)

54. لَمْ -[লাম] not (নয়)

55. لَنْ -[লান] never (কখনোও না)

12 th day :

56. كَلَّا -[কুল্লা] nay (বস্তুত)

57. لَيْسَ -[লাইসা] it is not (মতো নয়)

58. بَلَى -[বালা] of course (নিশ্চয়ই)

59. نَعَمْ [নাআ’ম] yes (হ্যাঁ)

60. مُؤْمِن -[মু’মিন] believer (বিশ্বাসী)

13 th day :

61. سَبِيل -[সাবিল] way (পথ, উপায়)

62. أَمْر -[আম্র] command (আজ্ঞা, নির্দেশ)

63. بَعْض -[বা’দ] some (কেহ, কিছু)

64. خَيْر -[খইর] better (উত্তম, শ্রেষ্ঠ)

65. إِلَٰه -ইলাহ

14 th day :

66. آخِر -[আখির] last (শেষ)

67. جَنَّة -[জান্নাহ] garden (বাগান)

68. نَار -[নার] fire ( আগুন)

69. غَيْر -[গইর] without (ব্যতিরেকে, ব্যতীত)

70. قَلْب -[ক্বলব] heart ( অন্তর)

15th day :

71. عَبْد -[আব্দ] slave (গোলাম)

72. أَهْل -[আহল] family (দল, পরিবার)

73. يَد -[ইয়াদ] hand (আয়ত্তে, হাত)

74. قَالَ -[ক্বলা] he said (বলেছেন)

75. كَانَ [কানা] he was (তিনি ছিলেন)

16th day :(verbal)

76. ءَامَنَ- [আমানা he believed (তিনি বিশ্বাস করেছিলেন)

77. عَلِمَ -[আলিমা] he knew (তিনি জানতেন)

78. جَعَلَ -[জা’আলা] he made (তৈরী করেছেন)

79. كَفَرَ -[কাফার] he disbelieved (অবিশ্বাস করেছিলো)

80. جَآءَ [জাআ]-he came (তিনি এসেছিলেন)

17th day :

81. عَمِلَ -[আমিলা] he did (করেছিলেন)

82. آتَى -[আ—তা] he gave (তিনি দিয়েছেন/লেন)

83. رَءَا -[—রআ] he saw (তিনি দেখেছিলেন)

84. أَتَى -[আতা] he came (তিনি এসেছিলেন)

85. شَآءَ -[শা—আ] he wished (ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন)

18th day :

86. خَلَقَ -[খলাক্ব] he created (তিনি তৈরী করেছেন)

87. أَنزَلَ -[আংযালা] he sent down (তিনি প্রেরণ করলেন)

88. كَذَّبَ -[কাযযাবা] he denied (মিথ্যে বলা অর্থে ব্যবহৃতও হয়, অস্বীকার করা অর্থেও)

89. دَعَا -[দা’আা] he invoked (প্রার্থনা করা অর্থে)

90. ٱتَّقَى -[আত্তাক্বা] he feared (ভয়)

19th day :

91. هَدَى -[হাদা] he guided (পরিচালিত করলেন)

92. هُوَ -[হুয়া] he (তিনি, সে)

93. هُمَا -[হুমা] they both (উভয়েই)

94. هُمْ -[হুম] they (male -তারা)

95. هِيَ -[হিয়া] she (এটা স্ত্রীবাচক) (সে)

20 th day :

96. هُنَّ -[হুন্না] they (female তারা)

97. أَنْتَ -[আংতা] you (male,তুমি)

98. أَنْتُمَا -[আংতুমা] you both (তোমরা উভয়েই)

99. أَنَا -[আনা] I (আমি)

100. نَحْنُ -[নাহঁনু] we (আমরা)

উপরিউক্ত শব্দগুলোর সম্ভাব্য বাংলা অর্থ আমি দেয়ার চেষ্টা করেছি, তবে বিভিন্ন আয়াতে শব্দগুলোর অর্থ ভিন্ন হতে পারে সে ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ খেয়াল রাখবেন।

যেহেতু কোরআনে কারীম আমাদের জীবনের সঠিক গাইডলাইন দেয়। সে জন্যে অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। সকাল কিংবা রাতে অথবা সাহরির আগে-পরে তাফসির চর্চার কাজ করতে পারেন। কোরআনে কারীমকে বুক সেলফে সাজিয়ে রেখে লাভ নেই। অনুবাদসহ বাংলা তাফসির গ্রন্থ কিনে ঘরের শোভা বাড়িয়ে লাভ নেই। কোরআন শরিফ এবং তাফসিরগুলোকে সেলফ থেকে নামিয়ে পড়ার টেবিলে আনতে হবে, নিয়মিত পড়তে হবে।

আল্লাহ্‌ আল-কুরআনে ৪ বার বলেছেন–

❝আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে । অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি ?❞

[সূরা কামার ৫৪:১৭, ২২, ৩২, ৪০]

[আরবি শেখার জন্য 👉এসো আরবি শিখি” এই বইটির প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড কিনে পড়তে পারেন। সেটাই সবচেয়ে ভালো হবে। দাম অল্প কিছু টাকা মাত্র। তবে, এর পাশাপাশি এখানে বইটির পিডিএফ লিংক দেওয়া আছে। ডাইনলোড করেও পড়তে পারেন।

https://drive.google.com/file/d/0B-0-3N4nujlyS3U1cUd1c2xDeEk/view

পার্ট ৪ঃ দৈনন্দিন জীবনে কোরআন

১। আয়াতুল কুরসি

আয়াতুল কুরসির ফজিলত
—————————————-
আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু বাধা হবে না।
[সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪]

হজরত আলী (রা:) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)কে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে, প্রতিবেশীর ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন।
[সুনানে বাইহাকী]

শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাজতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হতে না পারে। (বুখারি) হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত: রাসুল (সা.) বলেছেন: সুরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে।
[মুস্তাদরাকে হাকিম:২১০৩]

আবূ হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আনহু) বলেছেন, রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, সূরা আল বাক্বারায় এমন একটি আয়াত রয়েছে যা কুরআনের অন্য সব আয়াতের সর্দার বা নেতা। সে আয়াতটি যে ঘরে পড়া হয়, তা থেকে শয়তান বেরিয়ে যায়।
[তাফসীর মা’ আরেফুল কুরআন-১ম খণ্ড, পৃ: ৬৭৬]

মুসলিম সমাজে আয়াতুল কুরসি নিয়ে আরেকটি কথা প্রচলিত আছে, তাহলো কোথাও যাওয়ার পূর্বে আয়াতুল কুরসি পড়ে বের হলে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সহিহ বুখারী ও মুসলিমসহ হাদিসের অন্যান্য কিতাবে দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের বর্ণনাকারী হজরত আবু হুরায়রা রা. এবং হাদিসে বর্ণিত ঘটনাটিও তার সঙ্গেই সংঘটিত হয়।

ঘটনাটি হলো:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার হজরত আবু হুরায়রা রা.-কে জাকাতের সম্পদ দেখাশোনা ও পাহারা দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত করলেন। তিনি মুসলমানদের থেকে উসুল করা জাকাতের সম্পদ দেখাশোনা করতেন। এক রাতে লক্ষ করলেন, এক বৃদ্ধ সেখান থেকে খেজুর তুলে খাচ্ছে। হজরত আবু হুরায়রা রা. তাকে পাকড়াও করলেন। লোকটি ছোটার জন্য কাকতি-মিনতি শুরু করল।
আবু হুরায়রা রা. বললেন, তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যাবো।
লোকটি বলল, আমি ক্ষুধার্ত ও অসহায়। আমার পরিবার-পরিজন আছে। দারিদ্র্যের মাঝে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি।

লোকটির কথায় হজরত আবু হুরায়রা রা.-এর মন গলে গেল। তিনি লোকটিকে ছেড়ে দিলেন। আল্লাহ তায়ালা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘটনা জানিয়ে দিয়েছিলেন। সকালে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, আবু হুরায়রা, তোমার গতকালের বন্দীর কী খবর? হজরত আবু হুরায়রা রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, লোকটি নিজের ও পরিবারের অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যের অভিযোগ করেছে। এ জন্য আমার দয়া হয়। তাই তাকে ছেড়ে দিই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে। সে আবারো আসবে।
আবু হুরায়রা রা. রাসূলের কথা শুনে সে লোকটির অপেক্ষায় রইলেন। সে আবার এলো। আগের মতোই খেজুর খেতে লাগল। আবু হুরায়রা রা. পাকড়াও করলেন। সে আগের মতোই কাকতি-মিনতি করতে থাকে এবং নিজের ও পরিবারের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে। এবারো তিনি সদয় হয়ে ছেড়ে দিলেন। পরদিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, আবু হুরায়রা, তোমার বন্দীর খবর কী?

তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, সে কাকতি-মিনতি করেছে বিধায় তাকে ছেড়ে দিয়েছি।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবারো বললেন, সে আবার আসবে।
তৃতীয় রাতে চোর আবার এলো। এবার আবু হুরায়রা রা. তাকে খুব ভালোভাবে পাকড়াও করলেন। বললেন, এবার তোমাকে অবশ্যই রাসূলের দরবারে হাজির করব। তোমার কথামতো তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি। তুমিও বারবার ফিরে আসছো। এবার আর ছাড়া পাবে না।
অবস্থা বেগতিক দেখে বলল, আমাকে এবার ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে একটি আমল শিক্ষা দেবো, আপনার অনেক ফায়দা হবে। আবু হুরায়রা রা. জিজ্ঞেস করলেন, সেটা কী?

লোকটি বলল, রাতে আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করে ঘুমাবেন। এ আয়াত তেলাওয়াত করে ঘুমালে আল্লাহ তায়ালাই হবেন আপনার হেফাজতকারী। আপনার কাছে কোনো শয়তানও আসতে পারবে না।
পরদিন সকালে নবীজী আবু হুরায়রা রা.-কে রাতের বন্দী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, গত রাতে সে আমাকে একটি আমল শিখেয়েছে তাই তাকে ছেড়ে দিয়েছি।

-কী আমল?
-সে আমাকে রাতে শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করে ঘুমাতে বলেছে। এতে আল্লাহ তায়ালা আমাকে সকাল পর্যন্ত হেফাজত করবেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা শুনে বললেন, সে তোমাকে সত্যই বলেছে, যদিও সে মহা মিথ্যাবাদী।
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, আবু হুরায়রা, তুমি কি জানো, তিন রাত ধরে তোমার সঙ্গে কার সাক্ষাৎ হচ্ছে?

-না, তা তো জানি না!
-সে ছিল শয়তান।
[সহিহ বুখারী : ২৩১১]

এ ঘটনা থেকে জানা গেল, রাতে আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করে ঘুমালে আল্লাহ তায়ালা সকল বালা-মসিবত থেকে হেফাজত করবেন। চোর-ডাকাত থেকে রক্ষা করবেন। শয়তান ও দুষ্ট জিনের ক্ষতি থেকেও নিরাপদ রাখবেন। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে এ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আয়াতুল কুরসি

২। সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত

সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াতের ফযীলত:

সুরা বাক্বারার শেষ দুটি আয়াত (২৮৫+ ২৮৬, আমানার রাসূলু…থেকে শেষ পর্যন্ত) তেলাওয়াত করার অনেক উপকারের কথা সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। শেষ আয়াতে অত্যন্ত জরুরি কয়েকটি দুয়া রয়েছে। এসব দুয়া কবুল হওয়ার ওয়াদাও করা হয়েছে।

►প্রিয় নবীজী (সাঃ) একদিন বললেনঃ
“এই মাত্র আকাশের একটি দরজা খোলা হয়েছে। এর আগে কখনও এ দরজাটি খোলা হয়নি, এ দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতরণ করছেন। এর আগে তিনি কখনও পৃথিবীতে অবতরণ করেননি। এ ফেরেশতা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে সালাম করে বলেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন আপাদমস্তক দুটি নূরের, যা আপনার আগে কোন নবীকে দেয়া হয়নি।
১. ফাতেহাতুন কিতাব অর্থাৎ সুরা ফাতেহা
এবং
২. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত।

উভয় আয়াতে দোয়া আছে। আল্লাহর উসিলা করে, আপনি এসব দোয়ার যে অংশই পাঠ করবেন আল্লাহ আপনাকে অবশ্যই রহমত দান করবেন, (অর্থাৎ কবুল করা হবে)
[সহীহ মুসলিম]

►রাতের বেলা ঘুমানোর পূর্বে সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করলে তাহাজ্জুদ নামাযের সমান সওয়াব পাওয়ার আশা করা যেতে পারেঃ
রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়বে সেটা তার জন্য যথেষ্ঠ হবে।”
[বুখারি ৫০১০, মুসলিম ৮০৭]

►বিখ্যাত হাদীসের কিতাব, ‘রিয়াদুস সালেহীন’ এর লেখক ও সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার, ইমাম আন-নববী (রহঃ) বলেন,
“এর অর্থ কেউ বলেছেন, কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেন, শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেন, বালা-মুসিবত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। তবে সবগুলো অর্থ সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
[শারহুন নববী আলা সহিহ মুসলিমঃ ৬/৩৪০,হাদীস ৮০৭]

►সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার, আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদীস, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) এই অভিমত সমর্থন করে বলেন, উপরের সবগুলো অর্থ নেওয়া সঠিক। আল্লাহ ভালো জানেন। প্রথম অর্থটি (তাহাজ্জুদের সমান সওয়াব পাওয়া যাবে) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে একটি মারফু হাদীসে স্পষ্ট ঊল্লেখ আছে।
[ফাতহুল বারীঃ ৮/৬৭৩, হাদীস নং- ৫০১০]

►এ কারণেই আলী (রাঃ) বলেন:
“আমার মতে যার সামান্যও বুদ্ধিজ্ঞান আছে, সে এ দুটি আয়াত পাঠ করা ছাড়া নিদ্রা যাবে না”।

►মানাকিবুস সাহাবা, ইমাম নববী এটাকে সহীহ বলেছেন, আল-আযকার।
হজরত আবু মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত রাতে পাঠ করবে, তার জন্য এ দুটি আয়াত যথেষ্ট হবে”
অর্থাৎ সারারাত সে জিন ও মানুষের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে এবং প্রতিটি অপ্রিয় বিষয় থেকে তাকে হেফাজত করা হবে।
[সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম]

সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত

৩। সূরা কাহাফ

সূরা কাহাফ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। কোরআন শরিফের ১৮ নম্বর সূরা এটি। আয়াত সংখ্যা ১১০, রুকু ১২। এটি ১৫ নম্বর পারার দ্বিতীয় সূরা।
বিভিন্ন হাদিসে সূরা কাহাফের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। বিশেষত জুমার দিন এ সূরা তেলাওয়াতের অনেক ফজিলত রয়েছে। নিচে কিছু সহিহ হাদিস উল্লেখ করা হলোঃ
১। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে হেফাজত থাকবে। -সহিহ মুসলিম: ৮০৯, আবু দাউদ: ৪৩২৩
২। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পড়বে যেমনভাবে নাজিল করা হয়েছে, তাহলে সেটা তার জন্য নূর হবে তার স্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত এবং যে সূরার শেষ দশ আয়াত পড়বে সে দাজ্জালের গণ্ডির বাইরে থাকবে এবং দাজ্জাল তার ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। -সুনানে নাসাঈ: ১০৭২২
৩। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ যেমনভাবে নাজিল হয়েছে সেভাবে পড়বে, তার জন্য কেয়ামতের দিন সেটা নূর হবে। -শোয়াবুল ঈমান: ২২২১

আল্লাহ আমাদের সকলকে জুম’আর দিনে সূরা কাহফ এর আমলটি করবার তৌফিক দান করুন। আমিন।

সূরা কাহাফের প্রথম ও শেষ ১০ আয়াত একসাথে

সূরা কাহাফ

৪। সূরা মুলক

সূরা আল-মূলক পবিত্র কোরআন শরীফের ৬৭ তম সূরা। এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৩০, রুকু আছে ২টি। সূরা আল-মূলক মক্কায় অবতীর্ণ হয়। সূরা আল মূলকের নামের অর্থ, সার্বভৌম কর্তৃত্ব। এই সূরা পবিত্র কোরআন শরীফের ২৯ নং পারায় আছে।

সূরা মূলক-এর ফজিলত

হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; ” কোরআন শরীফে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে না দেয়া পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হলো تبارك الذي بيده الملك.– ‪#‎তাবারাকাল্লাযী বি ইয়াদিহিল মূলক অর্থাৎ ‪#‎সূরা মূলক…

[আবু দাউদ-১৪০২, তিরমিজি-২৮৯১, ইবনে মাজাহ-৩৭৮৬, মুসনাদে আহমদ-২/২৯৯]

অন্য এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,” আমার মন চায় প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে যেনো সূরা মূলক মুখস্ত থাকে। “

[বায়হাকীর শুআবুল ইমান-২৫০৭]

আরেকটি এক হাদিসে বর্ণিত আছে, যে এ সূরা তেলাওয়াতকারীর আমলনামায় অন্য সূরার ‪#‎তুলনায়_৭০ টি নেকী বেশি লিখা হবে এবং ‪#‎৭০টি গোনাহ মুছে ফেলা হবে।

[তিরমিজি-২৮৯২]

আর যে ব্যক্তি নিয়মিত সুরা মূলকের আমল করবে সে ‪কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাবে।

[তিরমিজি-২৮৯০, মুসতাদরাকে হাকেম]

হাদীসে আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো রাতে সুরা মূলক না পড়ে ঘুমাতেন না।

[তিরমিজি-২৮৯২, হিসনে হাসিন]

সূরা মুলক

৫। আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত ও হাশরের শেষ তিন আয়াত

  • আবু উমামা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না।”
  • রাসুলুলাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে সেটা তার জন্য যথেষ্ঠ হবে”। [ বুখারি ৫০১০, মুসলিম ৮০৭ ]
  • যে ব্যক্তি “আউজুবিল্লাহিস সামীয়িলআলীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম” পাঠকরার পর সুরা হাশরের সর্বশেষ তিন আয়াতপাঠ করিবে আল্লাহ তায়ালা তাহার জন্য ৭০হাজার ফেরেশতা নিযুক্তকরে দিবেন, তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঠকারীরজন্য রহমতের দোয়া করবে। যেদিন এইআয়াত তিনটি পাঠ করিবে সেদিনপাঠকারী মারাগেলে শহীদের মউত হাসিলকরিবে। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এভাবে পাঠকরিবে সেও একই মর্তবা লাভ করিবে। (তিরমিজী)

৫। আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত ও হাশরের শেষ তিন আয়াত